পুরো পৃথিবীর মতো আমার শহরটা ও আজ মরণব্যাধি করোনার ত্রাসে ঘর বন্দী, ভাবিনি এ জীবনে এই দিনগুলোর ও সাক্ষী থাকবো। Contagion,The flu,Out break এর মতো সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র গুলো যেন জীবন্ত রূপে গুটিগুটি পায়ে চোখের দারগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে, একেকটা ঘরের পাশের কালো রাস্তাগুলোই যেন সীতাকে দেওয়া লক্ষণরেখা, শৈশবে দেখা সেই মুরগিটার মতো আমাদের আবাসিক ঠিকানা গুলো ও যেন আমাদের ডানার ভেতর জাপটে ধরে ঘুপটি মেরে বসে আছে, পৃথিবীটা যেন আজ দুপুরের ভাত ঘুমে অর্ধচেতন অবস্থায়।
একদিকে যখন পৃথিবীজুড়ে চিকিৎসকরা তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় করুনার দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভাঙতে ব্যস্ত তখন ভয়ে আমাদের মত স্তব্ধ জীবনগুলো ২১ দিনের লকডাউনে কিছু না করার বাহানা পেয়ে ফেসবুকের ভুলে যাওয়া সেই পুরনো ফটো গুলির মত জীবনটাকে ফিরে দেখতে চাইছি।
আর আমার বেলা ও অন্যথা হয়নি।
আর আমার বেলা ও অন্যথা হয়নি।
বরাবরই প্রকৃতি প্রেমিক আমি, অযাচিত করোনার প্রকোপে বিজ্ঞান অজ্ঞান হয়ে থাকলেও প্রকৃতি কিন্তু থেমে থাকেনি নিয়মমাফিক্ সে তার পৃষ্ঠা উল্টিয়ে চলেছে, ফেলে আসা বহুকাঙ্খিত বসন্ত গুলোর মত এ বসন্তে ও নতুন করে নতুন ভাবে চোখ বুলিয়ে নিতে পারছি যেন পুরনো দরাজ থেকে শ্রী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "আরণ্যক্" টা বের হলো।
এ হাহাকারে কিছুটা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হলেও গ্রাম্য জীবন গুলো তাদের খুঁটিনাটি নিয়ে ধীর গতিতে চলছে,
কোথাও গুলতি নিয়ে পাখি ধরার অছিলায় পায়ে পায়ে শুকনো ক্ষেত তো কোথাও সোনাছড়াটিতে কয়েকজোড়া হাত জলের নিচে পুঁটি ধরার অপেক্ষায়। দূরে কোথাও কাঁঠাল পাখির ডাক শুনে শুনে গোবর জলে উঠোন লেপা সেরে কেউ উনুনে চায়ের জল বসাচ্ছে আর তারই জেরে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়াগুলো গাছের ফাঁকে ফাঁকে সকালের রোদ টা কে ভাগ করে দিতে ব্যস্ত। বেলাটা বাড়তেই কোকিলের কুহুতান যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আর তার সাথে বাঁশঝাড় থেকে বাঁশঝাড়ে বসন্তের উদ্দাম হাওয়ার অবাধ বিচরণের শন্ শন্ শব্দ যেন অন্য জগতের পথ। পুকুরের জলে ভেসে বেড়ানো হাঁসের বাচ্চা গুলোর গায় শুকনো বাঁশপাতার স্খলনে আঁতকে উঠে পাড়ে চলে যেতে চাইছে।
কোথাও গুলতি নিয়ে পাখি ধরার অছিলায় পায়ে পায়ে শুকনো ক্ষেত তো কোথাও সোনাছড়াটিতে কয়েকজোড়া হাত জলের নিচে পুঁটি ধরার অপেক্ষায়। দূরে কোথাও কাঁঠাল পাখির ডাক শুনে শুনে গোবর জলে উঠোন লেপা সেরে কেউ উনুনে চায়ের জল বসাচ্ছে আর তারই জেরে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়াগুলো গাছের ফাঁকে ফাঁকে সকালের রোদ টা কে ভাগ করে দিতে ব্যস্ত। বেলাটা বাড়তেই কোকিলের কুহুতান যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আর তার সাথে বাঁশঝাড় থেকে বাঁশঝাড়ে বসন্তের উদ্দাম হাওয়ার অবাধ বিচরণের শন্ শন্ শব্দ যেন অন্য জগতের পথ। পুকুরের জলে ভেসে বেড়ানো হাঁসের বাচ্চা গুলোর গায় শুকনো বাঁশপাতার স্খলনে আঁতকে উঠে পাড়ে চলে যেতে চাইছে।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল, সূর্যকে পেছনে রেখে গরুগুলি ঘরমুখো। ক্ষেতে ক্ষেতে লাল ডেঙ্গার চারাগুলো যেন গোধূলি বেলায় আরো রক্তিম, চাষার জলের ছিটায় ঝিঙে লতাগুলি যেন আরো সবুজ আরো সতেজ। ক্ষেতের মাঝখানে পাতালজল ভর্তি গামছা বাঁধা কলসি গুলো কাঁখে ওঠার অপেক্ষায়, মাঠ ঘাট জুড়ে সর্বত্র অন্ধকারের সাথে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক গাড়ো হয়ে আসছে, মাঝে মাঝে ব্যাঙের ডাক হয়তো বৃষ্টির আসা জানান দিচ্ছে, ঘনিয়ে আসা জোনাকি গুলো পৃথিবীর বুকে যেনো মিল্কিওয়ে।
শত বাধা পেরিয়ে এভাবেই বেঁচে থাকুক আমাদের পৃথিবী, সুস্থ থাকুক আমাদের জীবনধারা, দীর্ঘায়ু হোক ওরা যারা ওদের অটল মনোভাব আর অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে আমাদের প্রজন্ম আগলে রাখতে চাইছে, আমাদেরও কিছু দায় বর্তায় যেন সহযোগে একত্রিত ভাবে এই আঁতুড়ঘর ভেঙ্গে ফেলতে পারি।